×
Fri, 05 January 2024 at 4:13 pm

জিকিরের বয়ান

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلا – الآية

জিকির সার্বক্ষনিক ইবাদত। খুব সহজ, এই জন্য আল্লাহ পাক বেশী বেশী জিকির করার নির্দেশ দিয়েছেন। নামাজ দৈনিক পাঁচ বার। রোজা একমাস, মালদারের জন্য হজ্ব জীবনে এক বার, যাকাত শত করা আড়াই টাকা। এগুলোর সংখ্যা নির্ধারিত আছে। কিন্তু জিকিরের সংখ্যা নির্ধারিত নাই। জিকির বেশী বেশী করতে হবে মানুষ যেন পাগল বলে। জিকির খুব সহজ কারন হচ্ছে জিকির আদায়ের কোন শর্ত নেই। যেমন নামাজের ভিতরে বাহিরে তের ফরজ শর্ত।

একটা না থাকলে নামাজ হবেনা। কিন্তু জিকির এর বেলায় তা নয়। জোড়ে, আস্তে, শুয়ে, বসে, দাড়িয়ে, পাক, নাপাক, সর্বাবস্থায় আল্লাহর বান্দা আল্লাহর জিকির করবে। সন্তান প্রসবের পর, নাপাক অবস্থায় আল্লাহর বান্দী আল্লাহকে ডাকবে তাতে কেউ বাধা দিবেনা। অর্শের রোগী, আমাসার রোগী, পায়খানায় বসে আল্লাহ শান্তি দাও, আল্লাহ বাঁচাও বলে আল্লাহকে ডাকবে কেউ বাধা দিতে পারবেনা। এমনকি  পায়খানার টাংকি ভেঙ্গে ডুবে গিয়েও আল্লাহকে ডাকবে এবং ঐ অবস্থায় মৃত্যুর পূর্বে কালিমা লাইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়বে কেউ বাধা দেবেনা। ইসলামের শুরু লাইলাহা ইল্লাল্লাহ। মউতের পূর্বেও জিকির লাইলাহা ইল্লাল্লাহ। তাই মুমূর্ষু ব্যাক্তিকে নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাতের তালিম না দিয়ে লাইলাহা ইল্লাল্লাহর জিকিরের তালকিন দেওয়া হয়। তাই মুসলমান  আপদে বিপদে সুপদে সর্বাবস্থায় জিকিরের অভ্যাস করবে।

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ

বান্দা তুমি যদি আমার জিকির কর আমি আল্লাহ তোমার জিকির করব, সুবহানাল্লাহ! জিকির বহুত বড় একটা আল্লাহর নিয়ামত। চিন্তা করলে অবাক লাগে। আল্লাহতো একথা বলেন নাই যে বান্দা তুমি যদি নামায পড় আমি আল্লাহ নামাজ পড়ব। তুমি যদি রোজা রাখো আমি আল্লাহ রোজা রাখবো। তুমি যদি হজ্ব কর আমি আল্লাহ হজ্ব করবো। তুমি যদি যাকাত দাও আমি আল্লাহ যাকাত দিবো। কারণ এগুলো আল্লাহর শান নয়।

কিন্তু জিকির করা আল্ল্হার শান। চিন্তা করে দেখুন এই আয়াতে জিকির করলে নেকিদেব বেহেস্ত দেব একথা বলা হয় নাই। জিকিরের প্রতি দান জিকির দারাই দেয়া হবে।

আরো চিন্তা করে দেখুন  أَذْكُرْكُمْ মোজারের ছিগাহ যা আল্লাহর পক্ষেই সম্ভব মানুষের পক্ষে নয় এই জন্যই أَذْكُرْكُمْ অর্থাৎ বর্তমানেও জিকিরের জবাব দেব কবরে, মউতে, হাশরেও এই ডাকের জবাব দেব।

قال الله سبحانه وتعالى: (الَّذِينَ آمَنُواْ وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللَّهِ أَلاَ بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

বর্তমান বিশ্বের অশান্তির যুগে মানুষের অনেক কিছু আছে। গাড়ী বাড়ী আছে, বিজ্ঞান আছে, কিন্তু শান্তি নাই শুধু টেনশন আর টেনশন তাই মানুষ একটু শান্তির জন্য হন্যে হয়ে ঘুড়ছে। পার্কে যায় শান্তি নাই, চিড়িয়াখানায় যায় শান্তি নাই, হাসপাতালে শান্তি নাই, কক্রবাজার, সেন্ট-মার্টিনে শান্তি নাই। পরিশেষে চন্দ্রে যায় শান্তি নাই। মঙ্গল গ্রহে সেখানেও শান্তি নাই। কোয়ান্টামের মেডিটেশনও শান্তি দিতে পারেনা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন- أَلاَ بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ  অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহর জিকিরই পারে মানুষের মনে শান্তি দিতে।

তাই আমি বলি মসজিদে যাও। আর নামাযে দাড়াও, জিকিরের হালকায় তথা বেহেস্তের বাগানে বসো।

عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قالَ إِذَا مَرَرْتُمْ بِرِيَاضِ الْجَنّةِ فَارْتَعُوْا قَالًوا وَمَا رِيَاضُ الْجَنّةِ قَالَ حَلقُ الذِّكْرِ- رواه الترمذي

আল্লাহকে সম্মুখে নিয়ে বসো।

أَنَا جَلِيسُ مَنْ ذَكَرَنِي

 অর্থাৎ যেই মজমায় আমি আল্লাহর জিকির হয় আমি আল্লাহ ঐ মজমায় কুদরতি ভাবে বসে যাই।

لايقعد قومايذكرون الله الا حفتهم الملائكة وغشيتهم الرحمة ونزلت عليهم السكينة

অর্থাৎ আল্লাহর রহমত, বরকত, শান্তি এই জিকিরের হালকায় বর্ষন হয়।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর হাবিবকেও জিকিরের হালকায় বসার নির্দেশ দিয়েছেন।

আল্লাহ্ পাক বলেন-

وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ- الآيَةَ

অর্থাৎ যারা সকাল বিকাল তাদের প্রতিপালক কে ডাকে। (হে নবী) তাদের সাথে বসার অভ্যাস গড়ে নাও।

জিকিরের হালকা গুনাহ্ মাফের মজলিস।

فاشهدكم اني قدغفرت لكم

অর্থাৎ জিকিরের হালকায় যারা বসবে আল্লাহ পাক সবাইকে মাফ করে দিবেন। (বোখারী শরীফের হাদীসের অংশ)।

وعن عبد الله بن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان يقول : ” لِكُلِّ شَيْءٍ صِقَالَةً ، وَصِقَالَةَ الْقُلُوبِ ذِكْرُ اللَّه- رواه البيهقي في الدعوات الكبير

অর্থাৎ প্রত্যেক জিনিস পরিষ্কার করার যন্ত্র আছে । মানুষের দিল পরিষ্কার করার যন্ত্র হচ্ছে আল্লাহর জিকির।

وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم جَدِّدُوا إِيمَانَكُمْ، قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَكَيْفَ نُجَدِّدُ إِيمَانَنَا ؟ قَالَ: أَكْثِرُوا مِنْ قَوْلِ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ

অর্থাৎ লাইলাহা ইল্লাল্লাহ্ জিকির দ্বারা ইমান নবায়ন করা হয়।

আমি আল্লাহ জিকির কারির সঙ্গেই থাকি । ( متفق عليه ) وَأَنَا مَعَهُ إِذَا ذَكَرَنِي

বোখারী ও মুসলিম শরীফের হাদিস-

و عَنْ أَبِي مُوسَى رَضِي اللَّهم عَنْهم قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهم عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثَلُ الَّذِي يَذْكُرُ رَبَّهُ وَالَّذِي لَا يَذْكُرُ رَبَّهُ مَثَلُ الْحَيِّ وَالْمَيِّتِ ” ( متفق عليه )

অর্থাৎ যারা জিকির করেনা তারা মুর্দা আর যারা জিকির করে তারা জিবিত।

হাদিস শরীফে আছে-

عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن الله تعالى يقول – أنا مع عبدي إذا ذكرني وتحركت بي شفتاه – رواه البخاري

অর্থাৎ যখন বান্দা জিকির করে এবং তার দুই ঠোট নড়ে আমি তার সঙ্গেই থাকি।

আল্লাহর জিকির হলো মহান। কোরআনে পাকে এসেছে- وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ – الآيَةَ

হাদিস শরীফে আছে-

عن معاذ بن جبل قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ” من كان آخر كلامه لا إله إلا الله دخل الجنة ” رواه أبو داود

অর্থাৎ যার শেষ কথা হবে “ لا إله إلا الله ” সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

ফাআইনামা তুওয়াল্লু ফাসাম্মা ওয়াজহুল্লাহ

(১) লতাপাতা কিশলয়ের যে দোলায়িত রুপ এতো তারই হস্থ সঞ্চালন।

(২) বায়ুর যে সরসর মর্মর ধনি এতো তারি কন্ঠ মিঃসৃত মধুর বাণী।

(৩) মেঘের যে বৃষ্টিধারা এতো তারি প্রিতিকোণা।

(৪) শ্রোতসিনীর যে কুলু কুলু কলতান, এতো তারি অনন্ত শাশ্বত কণ্ঠের সুর।

(৫) কুসুমের শুস্বমা মন্ডিত পাপড়ীতে যে, শ্নীগ্ধতা ও পেলবতা এতো তারই প্রেমময় হাসি মাখা মুখের  মনো হরিনী সৌন্দর্য।

(৬) সুন্দরী রমনীর দেহ বল্লরীতে ও কপোলে যে, সৌন্দর্যের খেলা এতো তারই পরম সৌন্দর্যের অপরুপ বিকাশ।

হরজায়গামে তুহি তু। হর রংমে তুহি তু। হরবুমে তুহি তু। যেধার দেখতাহো মাই তুহি তু। (সুফি দর্শণ)