×
Sun, 03 May 2026 at 3:22 pm

মহব্বতের তাছির

প্রিয় পাঠক পাঠিকাগন মহব্বত যখন অতিমাত্রায় দেলে ঢুকে যায় তখন তাকে এশ্ক বলে। যার অন্তরে এস্কের আগুন ধরে যায় তাকে আশেক বা প্রেমিক এবং যার প্রতি এশ্ক হয় তাকে মাশুক বা প্রেমাস্পদ বলে।

      আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু আমাদের রুহের মাসুক এবং বান্দা তাঁর আশেক। প্রেম প্রেমিকের সার্বিক পরিবর্তন ঘটায়। কবি বলেন

“আশেকারা ছে আলামত আয় পেছার আহা ছরদো, রংগে জরদো, চশমে তর।” আশেকগন মাঝে মাঝে মাশুকের বিচ্ছেদ বিরহ ব্যাথার অনলে জ্বলে পুরে যে গ্যাস পয়দা হয় তাই আহ্ শব্দে বেরিয়ে আসে। তাদের চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে যায় এবং তাদের চোখে পানি থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় প্রেমিকগনের প্রেমের জ্বালায় আহার নিদ্রা কমে যায় অযথা ঘুরা ফেরা কমে যায়। প্রেমের কারনে প্রেমিকের মনের পরিবর্তন ঘটে। একটি মেয়ে যখন শিশু থাকে তখন সে চঞ্চল স্বার্থপর উশ্রীঙ্খল, নির্লজ্জ থাকে। যৌবনে পদার্পনের সাথে সাথেই তার মধ্যে এস্কে মাজাজী ঢুকে যায়। তার প্রভাবে ভারত্ব গাম্ভির্যতা, লজ্জাশীলতা, ভদ্রতা, উদারতা, আত্মত্যাগ তার মধ্যে প্রকাশ পায়। নিজে না খেয়ে স্বামী এবং সন্তানদের খাওয়ায়।

    সাধারনত একটি মাখলুক মুরগী ডিম দেওয়ার পূর্বে তার দেহের ওজন বেশী থাকে সুন্দর চেহারা, সুন্দর স্বাস্থ্য হয়, যখন যা পায় তখন তাই খায় অন্য মুরগী দেখলে খাবার মুখে করে দুরে চলে যায় সে থাকে ভীরু। ছোট ছেলের তাড়া পেলেও দ্রুত বেগে পালিয়ে যায়। কিন্তু যখন ঐ মুরগীর ডিম পাড়া শেষ হয় এবং ডিমে বাচ্চা ফোটে তখন তার মধ্যে প্রেম ঢুকে যায় তার খওয়া কমে যায় ঘুম চলে যায় ঘোরাফেরা বন্দ হয়ে যায়। তার চেহারা ও স্বাস্থ্যের পরিবর্তন ঘটে মুরগীর বুকের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় ঠোটে ও নখে ধার হয়ে যায়। সে হয় দুর্জয় সাহসের অধিকারী। শৃগাল যদি আসে তার উপর ঝাপিয়ে পরে মৃত্যুর ভয় থাকে না। শ্রবন শক্তি বৃদ্ধি পায় কিছুর আভাস পেলেই “কর” “কর” শব্দ করে বাচ্চাদের হুশিয়ার করে। দর্শন শক্তি বৃদ্ধি পায় উর্ধাকাশের উড়ন্ত চিল, কাক দেখতে পেয়ে বাচ্চাদের হুশিয়ার করে। সমস্ত খাদ্য বাচ্চাদের খাওয়ায়ে নিজে অভুক্ত থাকে।

      প্রিয় পাঠক মন্ডলী! চিন্তা করে দেখুন সৃষ্টির সেরা মানুষ এর দেলে যদি আল্লাহ্ প্রেমের আগুন লেগে যায় তার কেন পরিবর্তন হবে না। অবশ্যই প্রেমের কারনে মানুষ আশ্রাফুল মাখলুকাতে পরিনত হতে পারবে।