mohammad
Fri, 19 January 2024 at 2:50 pmদাড়ি রাখা ওয়াজিব
প্রশ্ন করেছেন, নাটোর সিংড়া থানার অন্তর্গত মাধাবাঁশ বাড়ীয়ার এক চাচা।
শরীয়তে দাড়ির গুরুত্ব কতটুকু? দাড়িরাখা ওয়াজিব না সুন্নাত? দাড়ি মুন্ডন করা কি জায়েয, নাকি মাকরুহ, নাকি হারাম? অনেকে মনে করেন দাড়ি রাখা সুন্নত। যদি কেহ রাখে তো ভালো, আর না রাখলে ও কোন গোনাহ্ হবে না এ ধারণা কতটুকু সঠিক?
৫ম প্রশ্ন ঃ শরীয়তে দাড়ির কোন পরিমাণ নির্ধারিত আছে কি? যদি থাকে তবে তা কতটুকু? জানালে চির কৃতজ্ঞ হব।
প্রশ্নের উত্তর ঃ দাড়ি মুন্ডন করা বা ছেটে ফেলা হারাম ও কবীরা গোনাহ্ যখন এক মুষ্টির কম হয়। এ প্রসঙ্গে প্রথমে কয়েকটি হাদীস শরীফ দলীল সহ উল্লেখ করব এবং প্রাসঙ্গিক কয়েকটি মাসআলা।
১) হাদীস ঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, দশটি কাজ ফিতরতের অন্তর্ভূক্ত। মোচ কাটা ও দাড়ি লম্বা করা। [মুসলিম শরীফ- পৃষ্ঠাঃ ১২৯]
২) হাদীস ঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা মোচ কেটে ফেল- আর দাড়ি লম্বা কর। [বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ পৃষ্ঠা ১২৯]
৩) হাদীস ঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধাচরণ কর। দাড়ি বড় কর ও মোচ (গোঁফ) কেটে ফেল। [বুখারী মুসলিম, মিশকাত পৃষ্ঠা ঃ ৩৮০]
৪) হাদীস ঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা মোচ কর্তন কর, দাড়ি লম্বা কর এবং অগ্নি পূজকদের বিরুদ্ধাচরণ কর। [মুসলিম শরীফ- পৃষ্ঠা ঃ ১২৯)
৫) হাদীস ঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে নিজের মোচ কর্তন করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। অর্থাৎ আমার সাথে তার কোন সম্পর্ক নাই। [আহমদ-তিরমিযী নাসায়ী মিশকাত- পৃষ্ঠা ঃ ৩৮১]
হাদীস ঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, মহিলা বেশধারী পুরুষ এবং পুরুষ বেশধারী মহিলার উপর আল্লাহর লা’নত, অভিশাপ্ত, গযব। [বুখারী শরীফ-মেশকাত-পৃষ্ঠা ঃ ৩৮০]
(১) মানুষের স্বভাব ধর্মের বিরুদ্ধাচরণ (২) আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টি রূপকে বিকৃত করা এবং সমস্ত নবী, রাসূলদের বিরুদ্ধাচরণ। এই তিন কারণেই দাড়ি মুন্ডন করা বা ছেটে ফেলা হারাম।
হাদীস ঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আমার প্রভু তো আমাকে দাড়ি বড় করার এবং মোচ কেটে ফেলার আদেশ করেছেন। (বিদায়া নেহায়া)
হাদীস ঃ জাবের (রাঃ) বলেন, আমরা কোন সময় দাড়িকে কাটতাম না কিন্তু হজ্ব অথবা উমরার মধ্যে। (হাশিয়ায় আছে যে দাড়ি বুক [সীনা] পর্যন্ত লম্বা ছিল) আবু দাউদ শরীফ ৫৭৭ পৃঃ
আফসোসের বিষয় ঃ যে নবী রাসূলের সাক্ষ্য ব্যতীত কেহ (জান্নাত) বেহেশ্তে প্রবেশ করতে পারবে না। সেই নবী, রাসূল (সাঃ) এর বিরুদ্ধাচরণ কিভাবে সাহস পায়। বেহেশ্ত যদি পেতে চাও দুনিয়াতে ঠিক হও। তা নয়লে (জাহান্নাম) দোযখের আগুনে দেহ পুড়াইবে, হাজার কাঁদিলে তখন মুক্তি নাহি পাইবে।
আল্লাহ বলবেন তোমাদের দুনিয়াতে জ্ঞান বুদ্ধি সবই দিয়েছিলাম। এখন হাজার কাঁদিলে ও আর হবে না, আর হবে না। ইমদাদুল ফতোয়ায় আছে পৃষ্ঠা- ২২৮ দাড়ি রাখা ওয়াজিব এবং এক মুষ্টির চেয়ে বেশী কাটা হারাম। (জায়েয নাই) কারণ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, দাড়ি বড় কর। (বুখারী-মুসলিম)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে আমার অনুসরণ করবে সে (জান্নাত) বেহেশ্তে যাবে পৃষ্ঠা- ১৮২।
উপরোক্ত হাদীস শরীফ সমূহের ভিত্তিতে ফকীহ্গণ এ ব্যাপারে একমত যে, দাড়ি লম্বা করা ওয়াজিব এবং ইহা ইসলামের একটি বিশেষ গুরুত্ব পূর্ণ প্রতীক চিহ্ন এবং দাড়ি মুন্ডন করা বা ছেটে ফেলা অর্থাৎ কর্তন করা হারাম ও কবীরা গোনাহ্।
উপরোক্ত হাদীস সমূহের দ্বারা দাড়ি লম্বা রাখার হুকুম (আদেশ) দেয়া হয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতেও এ মর্মে একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। [নসরুর বায়াহ খন্ড ২ পৃষ্ঠা- ৪৫৮]
এতে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, দাড়ির শরয়ী পরিমাণ কমপক্ষে এক মুষ্টি, অতএব দাড়ি মুন্ডন করা যেমন হারাম (জায়েয নাই) তেমনি কেটে ছেটে এক মুষ্টির কম করা ও হারাম (জায়েয নাই)।
আশিয়্যাতুল লুমআতে লেখেছেন যে, দাড়ি মুন্ডন করা হারাম, আর এক মুষ্টি পরিমাণ দাড়ি রাখা ওয়াজিব।
মাসআলাঃ এক মুষ্টি পরিমাণ দাড়ি রাখা ওয়াজিব।
মাসআলাঃ সম্পূর্ণ দাড়ি মুন্ডানো অথবা কিছু মুন্ডানো এবং কিছু রেখে দেয়া হারাম। জায়েয নাই।
মাসআলাঃ দাড়ি এক মুষ্টির চেয়ে কম হলে তা কেটে ফেলা হারাম, জায়েয নাই। এবং এক মুষ্টির অপেক্ষা বেড়ে গেলে বর্ধিত দাড়ি কেটে ফেলা জায়েয। (এক মুষ্টির চেয়ে বেড়ে যায় তা কেটে এক মুষ্টি পরিমাণ সমান করে রাখা জায়েয আছে।)
মাসআলাঃ এক মুষ্টির চেয়ে এক বিন্দু পরিমাণ দাড়ি কেটে কম করা হারাম, জায়েয নাই।
মাসআলাঃ এক মুষ্টি দাড়ি ধরার নিয়ম হলো হাতের বুড়ো আঙ্গুল অর্থাৎ বৃদ্ধা আঙ্গুলটি থুতনির নীচে থেকে লম্বা করে ধরার পর অতঃপর এক মুষ্টি দাড়ি ধরে মুষ্টির নীচে থেকে ঝুলন্ত বাকী দাড়িগুলি কেটে ফেলা জায়েয।
অথবা এক মুষ্টি দাড়ি ধরার নিয়মটি দ্বীনদার পরহেজগার আলেম, মুফতীর নিকট হতে দেখায়ে নিবেন, তাতে ভুল করবেন না।
মাসআলাঃ দাড়ি যদি এত বেশী পরিমাণ লম্বা হয়ে যায় যে, প্রস্রাব ছিটে উঠে দাড়িতে প্রস্রাব লাগার বা ভরার ভয় থাকে। তাহলে বেড়ে যাওয়া দাড়ি কেটে এক মুষ্টি পরিমাণ সমান করে রাখাই উত্তম। এক মুষ্টির চেয়ে কম না হয়। কারণ এক মুষ্টির চেয়ে দাড়ি কেটে কম করা হারাম। জায়েয নাই, কবীরা গোনাহ্।